সরকারি কেনাকাটায় অতি ক্ষুদ্র, নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ বাড়ানো গেলে দেশে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) সম্মেলন কক্ষে গতকাল এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এ মতামত দেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতি ক্ষুদ্র, নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্যানেল আলোচক ছিলেন ইউএনডিপির রিজিওনাল হেড মমতা কোহলি এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি হেড নাশিবা সেলিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা জানান, ইন্দোনেশিয়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ক্রয়ে শতকরা ৪০ ভাগ কোটা নির্ধারিত আছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ শতাংশ, ভারতে ২৫, ব্রাজিলে ২০, কেনিয়ায় ৩০ এবং যুক্তরাজ্যে ৩৩ শতাংশ কোটা সুবিধা রয়েছে। তারা বলেন, এসব দেশ এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, সরকারি ক্রয়ে এমএসএমই উদ্যোক্তাদের জোরালো অংশগ্রহণ অর্থনীতিকে গতিশীল করে। বাংলাদেশও সেই সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে।
তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট জাতীয় বাজেটের ৪৫ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৮০ শতাংশ সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ বিশাল বাজারে যদি এমএসএমই, নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও নতুন উদ্যোক্তাদের কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন ঘটবে, কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং উদ্যোক্তাবান্ধব ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
সেমিনারে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, সরকারি ক্রয়ে ১ শতাংশ অতিরিক্ত এসএমই অংশগ্রহণ হলে নতুন কর্মসংস্থান হয় প্রায় ৩০-৫০ হাজার। নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি হলে সমতাভিত্তিক অর্থনীতি ও পারিবারিক আয়ের প্রবৃদ্ধি হয় আর নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজার উন্মুক্ত হলে উদ্ভাবন, নতুন প্রযুক্তি ও স্থানীয় শিল্প বিস্তার লাভ করে। তাই সব এসএমই উদ্যোক্তার তথ্য সংবলিত একটি রেজিস্ট্রেশন প্লাটফর্ম প্রস্তুত করা যায়, যা সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সোর্স হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির আর্থিক সহযোগিতায় এসএমই ফাউন্ডেশন এ প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারে।’
সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের সমীক্ষা বলছে, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশ বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ এ খাতে, যেখানে কর্মরত রয়েছেন তিন কোটিরও বেশি মানুষ।